উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক বাধা যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে থামাতে না পারে—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে স্বামী দয়ানন্দ এডুকেশন ফাউন্ডেশন (SDEF)। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনটি মেধা ও আয়-ভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করে থাকে, যাতে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কিন্তু প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। ফাউন্ডেশনটির মূল দর্শন হল—প্রতিভার ভিত্তিতে সাফল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত, আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে নয়। মোট স্কলারশিপের ৩০ শতাংশ মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যা নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আসুন জেনে নিই এই স্কলারশিপের বিস্তারিত তথ্য।
স্বামী দয়ানন্দ এডুকেশন ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ কী?
স্বামী দয়ানন্দ এডুকেশন ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা, যা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেই স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। ভারতে এটি মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন, ফার্মেসি, আইটি এবং আর্কিটেকচারের মতো পেশাদার কোর্সে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ ₹৫০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। ফাউন্ডেশনটি বিশ্বাস করে যে আর্থিক অস্বচ্ছলতা কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়, তাই তারা প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কারা আবেদন করতে পারবেন?
স্কলারশিপের যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য ফাউন্ডেশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নির্ধারণ করেছে। আবেদনের আগে এই শর্তগুলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রধানত বি.টেক ও এমবিবিএস-এর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করছে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালে এই কোর্সগুলিতে ভর্তি হতে হবে।
ন্যূনতম নম্বরের শর্ত:
-
দ্বাদশ শ্রেণিতে ন্যূনতম ৮০% নম্বর থাকতে হবে।
-
ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেলের প্রবেশিকা পরীক্ষায় (JEE/NEET) সামঞ্জস্যপূর্ণ র্যাঙ্ক থাকতে হবে।
পারিবারিক আয়ের সীমা
আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
বিশেষ বিবেচনা
-
সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
-
৩০% আসন মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
-
যারা ড্রপ ইয়ার নিয়েছেন তারা এই স্কলারশিপের জন্য অযোগ্য।
-
আবেদনকারীর বয়স ২৫ বছরের কম হতে হবে।

স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্কলারশিপ
পেশাদার কোর্সের পাশাপাশি ফাউন্ডেশন IX থেকে XII শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি আলাদা স্কলারশিপ পরিচালনা করে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ৫০০টি স্কলারশিপ প্রদান করা হয়, যা মূলত দিল্লি/এনসিআর অঞ্চলের সিবিএসই-অধিভুক্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। তবে অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীরাও আবেদনের যোগ্য।
স্কুল স্কলারশিপের সুবিধা:
-
নবম শ্রেণি: বার্ষিক ₹২,০০০
-
দশম শ্রেণি: বার্ষিক ₹৩,০০০
-
একাদশ শ্রেণি: বার্ষিক ₹৪,০০০
-
দ্বাদশ শ্রেণি: বার্ষিক ₹৫,০০০
স্কুল স্কলারশিপের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ৩ লক্ষ টাকার কম এবং শেষ পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি
অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
প্রথম ধাপ: ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করুন এবং ‘Apply Online’ অপশনে ক্লিক করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: নিবন্ধন (Registration) সম্পন্ন করুন—একটি বৈধ মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
তৃতীয় ধাপ: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন—ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং পরিবারের আয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন (নিচে উল্লেখিত)।
পঞ্চম ধাপ: সমস্ত তথ্য যাচাই করে ফর্ম জমা দিন এবং রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন।
অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
অফলাইনে আবেদন করতে চাইলে ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট নিন। ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি সহ নিম্নলিখিত ঠিকানায় স্পিড পোস্ট বা রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন:
ঠিকানা: Swami Dayanand Charitable Education Foundation, K-33 (GF), Kalkaji, New Delhi – 110019
আবেদনের সময়সীমা
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ সম্পর্কে অফিসিয়াল পোর্টালে নজর রাখা উত্তম। বিগত বছরগুলিতে আবেদনের সময়সীমা সাধারণত সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ছিল। কিছু স্কুল স্কলারশিপের জন্য ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। আবেদন করার আগে অফিসিয়াল পোর্টালে শেষ তারিখ নিশ্চিত করে নিন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া
স্কলারশিপের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়:
-
দ্বাদশ শ্রেণির প্রাপ্ত নম্বর
-
প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রাপ্ত র্যাঙ্ক
-
পারিবারিক আয়ের স্তর
-
শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নথি ও ৫০০ শব্দের প্রবন্ধ চাওয়া হতে পারে। প্রবন্ধের বিষয় সাধারণত ‘আপনি কেন এই স্কলারশিপ পেতে চান’ বা ‘আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’—এই ধরনের হয়ে থাকে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদনের সময় নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রস্তুত রাখতে হবে:
-
দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিট
-
JEE/NEET র্যাঙ্ক কার্ড (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
-
বর্তমান প্রতিষ্ঠানের ভর্তি সনদ
-
পরিবারের আয়ের শংসাপত্র
-
আধার কার্ড বা পরিচয়পত্র
-
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠা)
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আবেদনের সময় সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করুন। মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। সমস্ত নথি পরিষ্কার স্ক্যান করে আপলোড করুন। শুধুমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে আবেদন করুন। কোনো অনানুষ্ঠানিক এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে আবেদন করবেন না। আবেদনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ড্রপ ইয়ার নেওয়া শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য অযোগ্য।
শেষ কথা: স্বামী দয়ানন্দ এডুকেশন ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ ২০২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন এবং অন্যান্য পেশাদার কোর্সে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ₹৫০,০০০ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার এক অসাধারণ সুযোগ। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের বি.টেক ও এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮০% নম্বর এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালো র্যাঙ্ক থাকাই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা দেরি না করে অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। আপনার মেধা যাতে অর্থের অভাবে নষ্ট না হয়, সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই এই স্কলারশিপ আপনার পাশে দাঁড়িয়েছে—সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না। আপনার ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে শুভকামনা রইল।











Leave a Reply
View Comments