জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপ ২০২৬: আবেদন পদ্ধতি, টাকার পরিমাণ, ও যোগ্যতা

Jagadish Chandra Bose Scholarship 2026

বিজ্ঞানের জগৎ অফুরন্ত সম্ভাবনার। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও আর্থিক সহায়তা। পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপ ২০২৬ এক স্বপ্নের মতো সুযোগ। মহান বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর স্মৃতিতে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি রাজ্যের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞানচর্চার পথে এগিয়ে যেতে আর্থিক ও মানসিক সাহায্য প্রদান করে। এই প্রবন্ধে আমরা এই বৃত্তির আবেদন পদ্ধতি, প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ, যোগ্যতার শর্তাবলী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপ কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

জগদীশ চন্দ্র বসু ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (JBNSTS) স্কলারশিপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর কর্তৃক পরিচালিত একটি মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রকল্প। বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও পদার্থবিদ জগদীশ চন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত এই বৃত্তির মূল লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের গবেষণার পথে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা। এই স্কলারশিপটি মূলত দুটি স্তরে বিভক্ত—জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ (JTST) এবং সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ (STST)। জুনিয়র স্তরটি মাধ্যমিক পাস করে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য, আর সিনিয়র স্তরটি উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্নাতক স্তরে বিজ্ঞান, প্রকৌশল বা মেডিক্যাল বিষয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রতি বছর এই স্কলারশিপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীরা, এবং নির্বাচিতরা পান মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা, যা তাঁদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে বিশেষ সহায়ক হয়।

জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপ ২০২৬: আবেদন পদ্ধতি, টাকার পরিমাণ, ও যোগ্যতা

যোগ্যতার শর্তাবলী: কারা আবেদন করতে পারবেন?

যেকোনো বৃত্তির আবেদনের প্রথম ধাপ হলো যোগ্যতা যাচাই। জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপের জন্য জুনিয়র ও সিনিয়র—এই দুই স্তরের জন্য আলাদা যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য।

জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ (JTST)-এর যোগ্যতা

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে ২০২৫ সালে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং সেই পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭৫% নম্বর (অর্থাৎ ৫২৫ বা তার বেশি নম্বর) পেতে হবে।

  • বর্তমান কোর্স: আবেদনকারীকে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে হবে। বিজ্ঞান বিভাগ বলতে এখানে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, গণিত, পরিসংখ্যান, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার বিজ্ঞান—এই বিষয়গুলির মধ্যে অন্তত তিনটি বিষয় নিয়ে পড়তে হবে।

  • বিশেষ বৃত্তি: ‘জুনিয়র বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’ নামে একটি বিশেষ বৃত্তি শুধুমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এই বৃত্তির জন্য আবেদনের সময় মেয়েদের আলাদা অপশন নির্বাচন করতে হবে।

সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ (STST)-এর যোগ্যতা

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে ২০২৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ শ্রেণি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ২০২৬ সালের আগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করলে এই বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে না। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যা অনেকেই উপেক্ষা করেন।

  • বর্তমান কোর্স: আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান (সম্মান), প্রকৌশল বা মেডিক্যাল বিষয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হতে হবে। সাধারণ স্নাতক (পাস কোর্স), ডিপ্লোমা কোর্স বা নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

  • মেয়েদের জন্য বিশেষ সুবিধা: সিনিয়র স্তরেও ‘সিনিয়র বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’ নামে একটি বিশেষ বৃত্তি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া স্নাতকোত্তর স্তরের মেয়ে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য বছরে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ অনুদান পেতে পারেন।

অন্যান্য সাধারণ শর্ত

  • আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।

  • আবেদনকারী অন্য কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি বৃত্তি পেলে এই বৃত্তির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

  • কোনো প্রকার কৃত্রিম উপায়ে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করলে আবেদন বাতিল করা হবে এবং ভবিষ্যতের জন্যও অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

বৃত্তির পরিমাণ: কত টাকা পাওয়া যায়?

জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপের আর্থিক পরিমাণ শিক্ষার্থীর স্তর অনুযায়ী ভিন্ন। এটি শুধু মাসিক ভাতাই নয়, বই কেনার জন্য বাড়তি টাকাও দেয়, যা বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জুনিয়র স্কলারশিপ (JTST)-এর সুবিধা

  • মাসিক ভাতা: নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে ১,২৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। এই ভাতা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ২ বছরের জন্য প্রদান করা হয়।

  • বার্ষিক বই ভাতা: বছরে ২,৫০০ টাকা বই কেনার জন্য দেওয়া হয়।

  • অন্যান্য সুবিধা: নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিজ্ঞান সেমিনার, কর্মশালা এবং গবেষণামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এতে তাঁদের জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়ে এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

  • ল্যাপটপ পুরস্কার: লিখিত পরীক্ষায় প্রথম ১০ জন ছাত্র ও প্রথম ১০ জন ছাত্রীকে একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ ল্যাপটপ বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গবেষণার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ।

সিনিয়র স্কলারশিপ (STST)-এর সুবিধা

  • মাসিক ভাতা: সিনিয়র পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসে ৪,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এই ভাতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত প্রদান করা হয়।

  • বার্ষিক বই ভাতা: বছরে ৫,০০০ টাকা বই কেনার জন্য দেওয়া হয়, যা বিজ্ঞানের ভারী দামি বই কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক।

  • গবেষণা অনুদান: সিনিয়র স্তরের মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণার জন্য বছরে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ অনুদান পেতে পারেন, যা তাঁদের স্বাধীন গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।

আবেদন পদ্ধতি: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন। কোনো হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে:

ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টালে নিবন্ধন

প্রথমে অফিসিয়াল JBNSTS পোর্টালে প্রবেশ করে ‘নতুন নিবন্ধন’ (New Registration) অপশনে ক্লিক করুন। একটি বৈধ মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি মোবাইল নম্বর ও একটি ইমেল আইডি শুধুমাত্র একজন আবেদনকারীর জন্য ব্যবহার করা যাবে। একাধিক আবেদনের জন্য একই নম্বর বা ইমেল ব্যবহার করলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে। নিবন্ধন শেষে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাবেন, যা লগইনের কাজে লাগবে।

ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ

লগইন করে আবেদন ফর্মটি সাবধানে পূরণ করুন। ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, পিতা/মাতার নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ), শিক্ষাগত যোগ্যতা (মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের বিবরণ, রোল নম্বর, প্রাপ্ত নম্বর, পাশের বছর), এবং বর্তমান প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। কোনো ভুল তথ্য প্রদান করলে আবেদন বাতিল হতে পারে। বিশেষ করে রোল নম্বর ও প্রাপ্ত নম্বর মার্কশিটের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।

ধাপ ৩: আবেদন ফি প্রদান

আবেদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে, যা সাধারণত ২০০ টাকা হয়ে থাকে। এই ফি অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতিতে—নেট ব্যাংকিং, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ওয়ালেট অথবা UPI-এর মাধ্যমে—জমা দিতে হবে। ফি একবার জমা দিলে তা ফেরত পাওয়া যায় না, তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালো করে যাচাই করে নিন।

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড

আবেদনের সময় নিম্নলিখিত নথিগুলির স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে:

  • মাধ্যমিক/দশম শ্রেণির মার্কশিট: JPEG বা PDF ফরম্যাটে, সাইজ ১ MB-এর মধ্যে।

  • উচ্চমাধ্যমিক/দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিট: (সিনিয়র স্তরের জন্য) JPEG বা PDF ফরম্যাটে, সাইজ ১ MB-এর মধ্যে।

  • স্বাক্ষর: JPG বা JPEG ফরম্যাটে, সাইজ ৫০ KB-এর মধ্যে।

  • পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি: JPG বা JPEG ফরম্যাটে, সাইজ ১০০ KB-এর মধ্যে।

মনে রাখবেন, কোনো নথি অফিসে ডাকযোগে বা সরাসরি পাঠানোর প্রয়োজন নেই। শুধু অনলাইন আপলোডই যথেষ্ট।

ধাপ ৫: জমা দেওয়া ও রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ

সমস্ত তথ্য ও নথি সঠিকভাবে আপলোড করার পর ‘প্রিভিউ’ অপশনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ আবেদনপত্র একবার পড়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। সবকিছু ঠিক থাকলে ‘Submit’ বোতামে ক্লিক করুন। জমা দেওয়ার পর একটি রেফারেন্স নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাবেন, যা ভবিষ্যতের যেকোনো প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে রাখবেন।

ধাপ ৬: লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

আবেদন জমা দেওয়ার পর যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত তারিখে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সিলেবাস এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অফিসিয়াল পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা ও গণিত—এই তিনটি বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি বিষয় থেকে ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫ নম্বর। ভালো প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে অনুশীলন করতে পারেন।

সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

প্রতিবছর অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী ছোটখাটো ভুলের জন্য এই বৃত্তি হাতছাড়া করেন। নিচে কয়েকটি সাধারণ ভুল ও তার সমাধান দেওয়া হলো:

  • ভুল তথ্য প্রদান: রোল নম্বর, পাশের বছর বা প্রাপ্ত নম্বর ভুলভাবে লিখবেন না। এগুলি মার্কশিটের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।

  • অসম্পূর্ণ নথি আপলোড: নথিগুলি অবশ্যই নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ও সাইসে আপলোড করুন। অস্পষ্ট ছবি বা বড় সাইজের ফাইল আপলোড করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি: একটি মোবাইল নম্বর ও ইমেল দিয়ে একাধিক আবেদন করবেন না। এটি প্রতারণামূলক কাজ হিসেবে ধরা হবে।

  • সময়সীমা অমান্য: আবেদনের শেষ তারিখের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হয় না। তাই শেষ মুহূর্তে সার্ভার জনিত সমস্যা এড়াতে সময় থাকতেই আবেদন সম্পন্ন করুন।

  • অন্যান্য বৃত্তি গ্রহণ: আপনি যদি অন্য কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি বৃত্তি পেয়ে থাকেন, তাহলে এই বৃত্তির আবেদন করবেন না। আবেদনের সময় সেলফ ডিক্লারেশনে উল্লেখ করতে হবে যে আপনি অন্য কোনো বৃত্তি পাচ্ছেন না।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ (২০২৬)

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদনের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি উল্লেখ করা হলো:

  • আবেদন শুরুর তারিখ: ১লা জুন, ২০২৫।

  • আবেদনের শেষ তারিখ: ৩১শে জুলাই, ২০২৫।

  • লিখিত পরীক্ষার তারিখ: ২৪শে আগস্ট, ২০২৫।

যদিও এই তারিখগুলি ২০২৫ সালের, কিন্তু ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তির জন্যই এই সময়সীমা প্রযোজ্য, কারণ স্কলারশিপ পরীক্ষা আগের বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে তা কার্যকর হয়। তাই ২০২৬ সালে স্নাতক বা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসের মধ্যেই আবেদন করতে হবে।

শেষ কথা: জগদীশ চন্দ্র বসু স্কলারশিপ ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিরাট সম্ভাবনার দ্বার। শুধু মাসিক আর্থিক সহায়তা ও বই কেনার টাকা নয়, এটি একটি স্বীকৃতি—যে আপনার মেধা ও পরিশ্রম সমাজের চোখে মূল্যবান। বিজ্ঞানের জটিল পথে এগিয়ে যেতে এই বৃত্তি আপনার পথচলাকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা সময়মতো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন এবং নিজের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যান। মনে রাখবেন, জগদীশ চন্দ্র বসুর মতো এক মহান বিজ্ঞানী হয়তো আপনিই হতে পারেন—শুধু প্রয়োজন সঠিক পথপ্রদর্শন ও একটু সাহস। এই বৃত্তি হয়তো সেই সাহসই জুগিয়ে দেবে আপনাকে।