পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রদত্ত নবান্ন স্কলারশিপ একটি অনন্য উদ্যোগ। ‘উত্তরকন্যা স্কলারশিপ’ নামেও পরিচিত এই প্রকল্পটি মূলত সেই মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি, যারা স্বামী বিবেকানন্দ মেধা-কাম-সুযোগ স্কলারশিপের (SVMCM) মতো কঠিন মেধাভিত্তিক বৃত্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এই স্কলারশিপ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ উচ্চশিক্ষার খরচ দিনদিন বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রবন্ধে আমরা নবান্ন স্কলারশিপ ২০২৬-এর আবেদনের প্রতিটি ধাপ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কত টাকা পাওয়া যায় এবং কী কী নথি লাগে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
নবান্ন স্কলারশিপ কী ও কেন এটি বিশেষ?
নবান্ন স্কলারশিপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (Chief Minister’s Relief Fund) থেকে পরিচালিত একটি এককালীন বৃত্তি প্রকল্প। স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের মতো মাসিক ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হয় না; বরং শিক্ষাবর্ষের শুরুতে এককালীন একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই বৃত্তির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর মেধার মাপকাঠি অত্যন্ত নমনীয়। ন্যূনতম ৫০% থেকে ৬০% নম্বর থাকলেই আবেদন করা যায়, যা শতকরা ৬০-এর বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের পথ খোলা রাখে এবং সেই সীমার নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নবান্ন স্কলারশিপ এক বিকল্প পথ তৈরি করে। অর্থাৎ, এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রকল্প, যেখানে প্রত্যেক যোগ্য শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে সহায়তা পায়। উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—প্রায় প্রতিটি স্তরের শিক্ষার্থীরাই এই বৃত্তির আওতায় আসতে পারেন।
২০২৬ সালের জন্য যোগ্যতার শর্তাবলী
নবান্ন স্কলারশিপের আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি: আবাসন ও আয়, শিক্ষাগত মান এবং বৃত্তি সংক্রান্ত অন্যান্য নিয়মাবলী।

আবাসিক ও আর্থিক শর্ত
আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং রাজ্যের কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত (রেগুলার) মোডে পড়াশোনা করতে হবে। পারিবারিক বার্ষিক আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই আয়সীমা ৬০,০০০ টাকাও উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরের প্রায় সব নির্দেশনায় ১,২০,০০০ টাকাই মান্য। এই আয়ের শর্তটি অত্যন্ত কঠোর, কারণ প্রান্তিক ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলিকেই এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বৃত্তিটি সত্যিই সেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়, যারা অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন না।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নম্বরের সীমা
এখানেই নবান্ন স্কলারশিপের স্বতন্ত্রতা। অন্যান্য মেধাভিত্তিক বৃত্তিতে উচ্চ নম্বরের প্রয়োজন হলেও, এই বৃত্তিতে ন্যূনতম ৫০% থেকে ৬০% নম্বর থাকলেই আবেদনযোগ্য। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শতকরা ৬০-এর বেশি নম্বর থাকলে আবেদন করা যায় না। কারণ ৬০%-এর বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নীচে স্তরভিত্তিক নম্বরের শর্ত দেওয়া হলো:
-
উচ্চমাধ্যমিক স্তরে (একাদশ-দ্বাদশ): মাধ্যমিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% থেকে ৬০% নম্বর থাকতে হবে।
-
স্নাতক স্তরে: উচ্চমাধ্যমিকে ৫০%-এর বেশি নম্বর থাকতে হবে এবং অনার্স বিষয়ে ন্যূনতম ৫৫% নম্বর দরকার। সাধারণ স্নাতকের ক্ষেত্রে ৫০%-৫২.৯% নম্বরও গ্রহণযোগ্য।
-
স্নাতকোত্তর স্তরে: স্নাতক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকতে হবে।
এছাড়া আবেদনকারীকে অন্য কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি বৃত্তি গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। একই শিক্ষাবর্ষে একাধিক বৃত্তি গ্রহণ করলে নবান্ন স্কলারশিপ বাতিল হতে পারে।
কত টাকা পাওয়া যায়? বৃত্তির পরিমাণ
নবান্ন স্কলারশিপ একটি এককালীন অনুদান। অর্থাৎ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা একবারেই ছাত্রছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কোর্সের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়:
-
মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা সাধারণ স্নাতক (বিএ, বিএসসি, বিকম) পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন ₹১০,০০০ টাকা।
-
ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, নার্সিং, পলিটেকনিক, বা অন্যান্য পেশাদার (প্রফেশনাল) কোর্সের শিক্ষার্থীরা পাবেন ₹১২,০০০ টাকা।
এই অর্থ সরাসরি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সঠিক ও আপডেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার ২ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এই অর্থ প্রদান করা হয়, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সময় কিছুটা বেশি বা কম লাগতে পারে।
আবেদন পদ্ধতি ধাপে ধাপে
নবান্ন স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। তবে যারা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের জন্য ডাকযোগে আবেদন পাঠানোর বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। নিচে উভয় পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
প্রথম ধাপ: পোর্টালে নিবন্ধন
প্রথমে অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করে ‘নতুন নিবন্ধন’ (New Registration) অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার একটি বৈধ মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি প্রদান করুন। নিবন্ধন সম্পূর্ণ হলে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড আপনার মোবাইল ও ইমেলে পাঠানো হবে। এই লগইন তথ্যটি নিরাপদে সংরক্ষণ করুন, কারণ আবেদনের অবস্থা জানতে ও ভবিষ্যতের কাজে এটি প্রয়োজন হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন ফর্ম পূরণ
লগইন করে আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন। ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, পিতা/মাতার নাম, ঠিকানা), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিবরণ, কোর্সের নাম, ভর্তির বছর এবং শেষ পরীক্ষার বিবরণ (রোল নম্বর, প্রাপ্ত নম্বর, বিভাগ) সঠিকভাবে লিখতে হবে। মনে রাখবেন, ফর্মে কোনো ভুল তথ্য দিলে আপনার আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই অন্তত দুবার তথ্যগুলি মিলিয়ে নিন।
তৃতীয় ধাপ: নথি আপলোড
এটি আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নিম্নলিখিত নথিগুলির স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে (সাধারণত JPEG বা PDF) এবং নির্দিষ্ট ফাইল সাইসে (প্রতিটি নথি ৫০-২০০ কেবির মধ্যে) আপলোড করুন:
-
শেষ পরীক্ষার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট (মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক/স্নাতক)।
-
বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির রসিদ বা ফি জমার কপি।
-
পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র (গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা বা নোটারি দ্বারা প্রত্যয়িত)।
-
ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি (যাতে অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC কোড ও অ্যাকাউন্টধারীর নাম স্পষ্ট দেখা যায়)।
-
আধার কার্ড বা অন্য কোনো বৈধ পরিচয়পত্র।
-
পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে)।
-
সেলফ ডিক্লারেশন (যাতে উল্লেখ থাকবে যে, আপনি অন্য কোনো বৃত্তি পাচ্ছেন না এবং প্রদত্ত তথ্য সঠিক)।
চতুর্থ ধাপ: জমা দেওয়া ও রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ
সমস্ত তথ্য পূরণ ও নথি আপলোড করার পর ‘প্রিভিউ’ অপশনে ক্লিক করে ফর্মটি ভালো করে পড়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। সবকিছু ঠিক থাকলে ‘Submit’ বোতামে ক্লিক করুন। জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি রেফারেন্স নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি আপনার স্ক্রিনে দেখাবে এবং সেই সঙ্গে আপনার নিবন্ধিত মোবাইল ও ইমেলে একটি নোটিফিকেশন চলে আসবে। এই নম্বরটি ভবিষ্যতের যেকোনো প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে রাখবেন।
অফলাইন (ডাকযোগে) আবেদন পদ্ধতি
যারা অনলাইনে আবেদন করতে অসুবিধা বোধ করেন, তাদের জন্য ডাকযোগে আবেদনপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট নিন। ফর্মটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথির স্ব-প্রত্যয়িত কপি জুড়ে নিচের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠিয়ে দিন:
সহকারী সচিব,
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়,
‘নবান্ন’,
৩২৫, শরৎ চ্যাটার্জি রোড, শিবপুর, হাওড়া – ৭১১১০২
উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ঠিকানা:
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়,
‘উত্তরকন্যা’,
স্যাটেলাইট টাউনশিপ, ফুলবাড়ি, জলপাইগুড়ি – ৭৩৪ ০১৫
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
অনেক শিক্ষার্থী যোগ্য হয়েও ছোটখাটো ভুলের জন্য এই বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হন। কিছু সাধারণ ভুল ও তার সমাধান জেনে নিন:
-
ভুল নথি আপলোড: নথিগুলি অস্পষ্ট বা ভুল ফরম্যাটে আপলোড করবেন না। প্রতিটি নথি পরিষ্কার স্ক্যান করুন এবং নামকরণে স্পষ্টতা রাখুন (যেমন: Marksheet, Income_Certificate)।
-
আয়ের শংসাপত্র: এটি অবশ্যই সঠিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রত্যয়িত হতে হবে। বাড়ির কাগজে লেখা আয়ের বিবৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম: ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম অবশ্যই আবেদনকারীর নামের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে। অন্যথায় টাকা স্থানান্তরিত হবে না।
-
একাধিক বৃত্তি গ্রহণ: আবেদনের সময় সেলফ ডিক্লারেশনে উল্লেখ করতে হবে যে আপনি অন্য কোনো বৃত্তি পাচ্ছেন না। মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্যও অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।
-
সময়সীমা অমান্য: সাধারণত আবেদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট থাকে। শেষ মুহূর্তে আবেদন করতে গিয়ে সার্ভার জনিত সমস্যা এড়াতে সময় থাকতেই আবেদন সম্পন্ন করুন।
করণীয় ও বিশেষ টিপস
-
আবেদন করার আগে অফিসিয়াল নির্দেশিকা ভালো করে পড়ে নিন এবং আপনার যোগ্যতা নিশ্চিত করুন।
-
সব স্ক্যান কপি একটি আলাদা ফোল্ডারে সংরক্ষণ করুন, যাতে সহজে খুঁজে পেতে পারেন।
-
আবেদন জমা দেওয়ার পর রেফারেন্স নম্বর দিয়ে কয়েকদিন পর স্ট্যাটাস চেক করুন।
-
কোনো প্রশ্ন বা সমস্যা হলে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। (উল্লেখ্য, হেল্পলাইন নম্বর অফিসিয়াল পোর্টালে পাওয়া যায়)।
শেষ কথা
নবান্ন স্কলারশিপ ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য দরজা। যাঁরা স্বাভাবিক মেধার অধিকারী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন, অথবা যাঁদের নম্বর শতকরা ৬০-এর নিচে কিন্তু পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ রয়েছে—এই স্কলারশিপ তাঁদের স্বপ্নপূরণের পথ সুগম করে। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ, যোগ্যতা স্পষ্ট এবং অর্থের পরিমাণও যথেষ্ট। তবে একটি বিষয় সর্বদা মনে রাখবেন—এই বৃত্তি শুধু অর্থ নয়, এটি সমাজের পক্ষ থেকে আপনার মেধা ও পরিশ্রমের প্রতি স্বীকৃতি। এই সুযোগটি সঠিকভাবে ব্যবহার করে শিক্ষার আলোয় নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করুন এবং আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুন। দেরি না করে আজই আপনার নথিপত্র তৈরি করুন এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন—কারণ সুযোগ সবসময় হাতছাড়া হওয়ার আগে আপনাকে ডাকে।











Leave a Reply
View Comments